এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

। গাঁদাফুলের ফেইসপ্যাক

কয়েকটি গাঁদা ফুলের সাথে দুধ এবং মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এটি ব্যবহার করুন। এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি খুবই কার্যকরী একটি ফেইসপ্যাক।

২। চন্দন, হলুদ এবং গোলাপের পাপড়ির ফেইসপ্যাক

এক চা চামচ চন্দন গুঁড়ো, সামান্য পরিমাণে হলুদের সাথে ৬-৭টি গোলাপ ফুলের পাপড়ি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি ঘন করার জন্য গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকটি ভালভাবে মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকে গোলাপি আভা নিয়ে আসবে। তার সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
 বেসন এবং হলুদের প্যাক

৪ টেবিল চামচ বেসনের সাথে ১/২ টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এর সাথে দুধ বা দুধের সর মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি ভাল করে মুখ এবং ঘাড়ে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি বিয়ের আগে ভারতীয় বর কনকে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

৪। লেবু এবং মধুর প্যাক

ব্যস্ত মহিলাদের জন্য সহজ একটি ফেইস প্যাক হল লেবু এবং মধুর ফেইসপ্যাক। ১ টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং ২-৩ ফোঁটা ফ্রেশ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। চোখের চারপাশের অংশ বাদ দিয়ে সারা মুখে এই প্যাক লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লেবু এবং মধুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ময়োশ্চারাইজার ত্বক পরিস্কার করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে।

৫। আয়ুর্বেদিক স্ক্রাব

১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো, চন্দনের গুঁড়ো, দুধ, বেসন এবং গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই আয়ুর্বেদিক স্ক্রাব দিয়ে সপ্তাহে একবার মুখ ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ব্রণের প্রবণতা কমিয়ে থাকে।

আয়ুর্বেদিক ফেইসপ্যাকের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। নিয়মিত প্যাকগুলো ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
নিয়মিত সুন্দর সুন্দর টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ এ অ্যাক্টিভ থাকুন।

দুই বিচারক হত্যা: জঙ্গি আরিফের ফাঁসি কার্যকর


ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আজ রোববার দিবাগত রাত ১০টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলা কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয় বলে নিশ্চিত করেন জেল সুপার কামরুল ইসলাম।

এর আগে একই মামলায় ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দেশের বিভিন্ন কারাগারে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই ছয়জন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হয়। আরিফের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে এই মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সব আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠির দুই বিচারক নিহত হন। সেদিন সকাল নয়টার দিকে সরকারি বাসা থেকে জেলা জজ আদালতে যাওয়ার পথে দুই বিচারককে বহনকারী মাইক্রোবাসে হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জগন্নাথ পাঁড়ে।
পুলিশ জানায়, এরপর জেএমবির শীর্ষ নেতারা আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ চলে। আদালত ২০০৬ সালের ২৯ মে সাতজনকে ফাঁসির আদেশ দেন। তাঁদেরই একজন এই আরিফ। তিনি পলাতক থাকায় উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেননি। অন্য ছয়জন আপিল করলেও ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ছয়জন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এই জঙ্গিরা হলেন: জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, শায়খের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন ও খালেদ সাইফুল্লাহ (ফারুক)।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ছয় শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ২০০৭ সালের ১০ জুলাই আরিফ ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার হন। ওই বছর জুলাই মাসে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরে আপিল বিভাগেও একই সাজা বহাল থাকে। আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আরিফ যে আবেদন করেছিলেন, গত ২৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ তা খারিজ করেন।
খুলনা কারাগার সূত্র জানায়, আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফ ২০০৮ সাল থেকে খুলনা জেলা কারাগারে ছিলেন। এক যুগ পর খুলনা কারাগারে কোনো দণ্ডিত কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকর হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ১০ মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ক্রিকেটে ভবিষ্যতের উদ্‌যাপন



ইংলিশ অধিনায়ক বাটলারের উইকেট পতনের পর মাশরাফিদের উদ্‌যাপন পছন্দ হয়নি আইসিসির। এমন চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতের উদ্‌যাপন কেমন হবে দেখা যাক।  

এক মিনিট নীরবতা
.ম্যাচে তীব্র প্রতিযোগিতা। শেষ দুই বলে লাগবে ছয় রান। ব্যাটসম্যান উড়িয়ে মারলেন। চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতের ভাষায় ‘বল চলে যাচ্ছে সীমানার বাইরে’। ঠিক এ সময় এক ফিল্ডার ছুটে এসে অনবদ্য ডাইভে বলটা তালুবন্দী করলেন। আউট আউট আউট!
কিন্তু মাঠে নেমে এল পিনপতন নীরবতা। কেউ দৌড়াল না। কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরল না। ফিল্ডার বলটাকে নিয়ে আস্তে আস্তে বোলারের কাছে গেলেন। ক্যাপ্টেনও এলেন ধীরে ধীরে। ওদিকে মুখ শুকিয়ে উইকেটকিপার দাঁড়িয়ে থাকলেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে লেখা উঠল, ‘ব্যাটসম্যান আউট! এক মিনিট নীরবতা!’
ব্যাটসম্যান হাসতে হাসতে চলে গেলেন প্যাভিলিয়নের দিকে। আর পিচের ওপর দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে এক মিনিট নীরবতা উদ্‌যাপন করতে থাকলেন বোলার ও ফিল্ডাররা।
পত্রপাঠ বিদায়
.ব্যাটসম্যান সমানে পিটিয়ে যাচ্ছেন। বোলাররা কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। এ সময় এক পার্টটাইম বোলার এসেই বোল্ড করে ফেললেন ব্যাটসম্যানকে। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে এল ফিল্ডারদের চোখে-মুখে। কাভারে দাঁড়ানো ফিল্ডারটি তো কেঁদেই ফেললেন। পকেট থেকে রুমাল ও একটি কাগজ বের করে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে পড়তে শুরু করলেন—হে বিদায়ী ব্যাটসম্যান, বিশ্ব ক্রিকেটে আপনি এক অনন্য প্রতিভা। আপনি এতক্ষণ যে চার-ছয়ের ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন, তা ছিল দৃষ্টিনন্দন। আপনার এই বিদায়বেলায় আমাদের বুকে যেন রচিত হয়েছে বেদনার মহাকাব্য।
আপনি ফিরে যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের জন্য রেখে যাচ্ছেন দুর্লভ স্মৃতি। আবার কোনো ম্যাচে, আবার কোনো মাঠে আপনার সঙ্গে আমাদের আবার হয়তো দেখা হবে। আবারও আপনি আমাদের ছয়-চার মেরে স্তব্ধ করে দেবেন, সেই আশাই করি।
পুষ্পমাল্য দান
.প্রচণ্ড উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ চলছে। রান রেট উঠে গেছে আটের ওপর। টু ডাউনে নেমেই স্পিন বোলার পেয়ে ব্যাটসম্যান চলে এলেন ডাউন দ্য উইকেটে। উড়িয়ে মারতে চাইলেন। কিন্তু বল ব্যাটের কোনায় লেগে আলতোভাবে শূন্যে ভেসে চলে গেল বোলারের হাতে। কট অ্যান্ড বোল্ড। বোলার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেলেন ব্যাটসম্যানের দিকে। একি করছেন বোলার? তিনি কি উইকেট পাওয়ার পর উদ্‌যাপন করতে ভুলে গেলেন? তিনি কি এখন হাত-পা ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করবেন? মাঠের ফিল্ডাররা হতবাক, দর্শকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা। কিন্তু না, বোলার ভুল করেও কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন না। বরং পকেট থেকে বের করলেন একটা বেলি ফুলের মালা। ব্যাটসম্যানের গলায় তা পরিয়ে দিলেন। ব্যাটসম্যান সেই মালা পরে আস্তে আস্তে মাঠের বাইরে চলে গেলেন। ফিল্ডার ও দর্শকের মধ্যে নেমে এল স্বস্তি। হাজার হোক, ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা!
চায়ের দাওয়াত দেওয়া
.অনেকক্ষণ থেকে খেলছেন ব্যাটসম্যান, এগিয়ে চলেছেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু তখনই ভুল করে একটা নিখুঁত বল করে ফেললেন বোলার। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে চুমু খেয়ে বলটা চলে গেল উইকেটকিপারের হাতে। ব্যাটসম্যান গ্লাভস খুলতে খুলতে যে-ই না ক্রিজ ছাড়বেন, অমনি সব ফিল্ডার ঘিরে ধরবেন ব্যাটসম্যানকে। সমবেতভাবে আবৃত্তি করবেন ‘যেতে নাহি দিব’ কবিতাটি। ক্যাপ্টেন এগিয়ে ব্যাটসম্যানের সঙ্গে হাত মেলাবেন, তারপর কোলাকুলি করবেন। তারপর ম্যাচ শেষে অফিশিয়াল চায়ের আড্ডায় দাওয়াত জানাবেন। ব্যাটসম্যান যদি চায়ের দাওয়াত গ্রহণ না করেন, তবে ক্যাপ্টেন তাঁকে আবার ব্যাটিং করতে অনুরোধ জানাবেন।
উদ্‌যাপনের জন্য বাড়তি দিন
.এসব উদ্‌যাপনের পর আরও উদ্‌যাপনের যদি কিছু থেকে থাকে, যদি খেলোয়াড়দের মন না ভরে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে প্রতিটি সিরিজে হয়তো একটা বাড়তি দিন রাখা হবে। এই দিনে প্রথম ভাগে এক দল মাঠে নামবে। জায়ান্ট স্ক্রিনে তাদের উইকেট নেওয়া দেখানো হবে। তখন তাঁরা নাচানাচি, পরস্পরকে জড়াজড়ি করে পিঠ চাপড়াচাপড়ি করবেন। কেউ যদি ডিগবাজি খেতে চান, তবে তা-ও খেতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ দলের চোখে যেন এসব না পড়ে। এরপর প্রতিপক্ষ দল এসে একইভাবে উদ্‌যাপন করতে পারবে মাঠে। এটা হবে ভদ্রলোকি উদ্‌যাপনের চূড়ান্ত প্রকাশ।

দৈনিক সংবাদ ও টিপস: ব্রিকসেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনার চেষ্টা ভারতেরব্র...

দৈনিক সংবাদ ও টিপস: ব্রিকসেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনার চেষ্টা ভারতের

ব্র...
: ব্রিকসেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনার চেষ্টা ভারতের ব্রিকস সম্মেলনের ইশতেহারে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গটির সরাসরি উল্লেখ নেই। তবু স...

ব্রিকসেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনার চেষ্টা ভারতের



ব্রিকস সম্মেলনের ইশতেহারে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গটির সরাসরি উল্লেখ নেই। তবু স্বাগতিক দেশ ভারত গতকাল রোববার নানাভাবে বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছে জোটের অন্য চার দেশের নেতাদের কাছে।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই ঘটনার জেরে ভারত এখন পাকিস্তানকে একঘরে করতে নানা ধরনের কূটনৈতিক চেষ্টা শুরু করে। ব্রিকস সম্মেলনেও নয়াদিল্লি পাকিস্তানবিরোধী একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করাতে চায়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চীন পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হওয়ার কারণে নয়াদিল্লির সেই চেষ্টায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সেনাঘাঁটিতে ওই হামলার ঘটনায় ভারত অভিযোগের আঙুল তুলেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দিকে। কিন্তু ইসলামাবাদ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিশোধমূলক হামলা (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) চালালেও পাকিস্তান দাবি করছে, তাদের ভূখণ্ডে এ রকম কোনো হামলা হয়নি। যা হয়েছে, সেটা গতানুগতিক আন্তসীমান্ত গোলাগুলিমাত্র।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর সমাপনী বিবৃতিতে অবশ্য কোনো ধরনের শত্রুতাপূর্ণ মন্তব্য ছিল না। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও কট্টরপন্থার হুমকিগুলোকে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করছি। এগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য বাধা। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজ, জীবনযাত্রা ও মানবতার জন্য বড় হুমকি।’
পাকিস্তান অবশ্য মোদির ওই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ব্রিকসের নেতারা মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তবে স্বাগতিক দেশের নেতা মোদি সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে আসায় অন্যান্য আলোচ্য বিষয় কিছুটা আড়ালে চলে গেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ শশাঙ্ক যোশী বলেন, মোদি যে ধরনের ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, সেটা সম্মেলনের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বসম্মতি পাবে না—তিনিও সেটা জানেন। তবু তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমে প্রচারের জন্য।
সম্মেলনের অর্জনগুলো ক্রমবর্ধমান, আর তার মধ্যে রয়েছে একটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং যৌথ ক্রেডিট রেটিং সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজে গতি বৃদ্ধি ইত্যাদি।
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, সেটা ভারতের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত সংযমের সঙ্গে মেলে না। তবে সেনাঘাঁটিতে হামলার বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়া—দুই তরফের সমর্থন পেয়েছে। অবশ্য পাকিস্তানের পুরোনো মিত্র চীন কোনো ধরনের মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।
সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিন্দা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের যৌথ প্রচেষ্টা নিয়ে জোরালো কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। তবে তাতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার বিষয়টিকে কোনো ধরনের দোষারোপ করা হয়নি।
লন্ডনের রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক যোশী আরও বলেন, ‘চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন দিচ্ছে বলে কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। ভারতও এর ব্যতিক্রম আশা করেনি।’
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার জেরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্কের সম্মেলন ইতিমধ্যেপণ্ড হয়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ওই আয়োজন থেকে ভারতসহ কয়েকটি দেশের নাম প্রত্যাহারই এর কারণ।

ব্রিকস-বিমসটেক মেলবন্ধনে শেখ হাসিনার তিন প্রস্তাব




উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর মেলবন্ধনে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত এই দুই সংগঠনের ‘আউটরিচ’ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যাবতীয় টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টা নির্ভর করছে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর। সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশে আমরা শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছি।’
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর (ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান) তুলনায় অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটাই উন্নত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিকসের মেলবন্ধন ঘটানো গেলে অর্থনীতির পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তার লাভ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা এই প্রস্তাব দেন।
শেখ হাসিনার প্রথম প্রস্তাব উন্নতমানের অবকাঠামো নির্মাণে যত্নবান হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তার মধ্য দিয়ে উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ। আর তৃতীয় প্রস্তাবে বলেছেন, ব্রিকস ও বিমসটেক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে আর্থিক দিক থেকে কম উন্নত দেশগুলো অগ্রগতির সোপানে আসতে পারবে। তিন প্রস্তাবের পাশাপাশি তাঁর সাবধানবাণী—সব প্রচেষ্টাই বিফলে যাবে, যদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ না করা যায়।