এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

ব্রিকসেও পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনার চেষ্টা ভারতের



ব্রিকস সম্মেলনের ইশতেহারে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গটির সরাসরি উল্লেখ নেই। তবু স্বাগতিক দেশ ভারত গতকাল রোববার নানাভাবে বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছে জোটের অন্য চার দেশের নেতাদের কাছে।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই ঘটনার জেরে ভারত এখন পাকিস্তানকে একঘরে করতে নানা ধরনের কূটনৈতিক চেষ্টা শুরু করে। ব্রিকস সম্মেলনেও নয়াদিল্লি পাকিস্তানবিরোধী একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করাতে চায়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চীন পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হওয়ার কারণে নয়াদিল্লির সেই চেষ্টায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সেনাঘাঁটিতে ওই হামলার ঘটনায় ভারত অভিযোগের আঙুল তুলেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দিকে। কিন্তু ইসলামাবাদ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিশোধমূলক হামলা (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) চালালেও পাকিস্তান দাবি করছে, তাদের ভূখণ্ডে এ রকম কোনো হামলা হয়নি। যা হয়েছে, সেটা গতানুগতিক আন্তসীমান্ত গোলাগুলিমাত্র।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর সমাপনী বিবৃতিতে অবশ্য কোনো ধরনের শত্রুতাপূর্ণ মন্তব্য ছিল না। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও কট্টরপন্থার হুমকিগুলোকে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করছি। এগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য বাধা। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজ, জীবনযাত্রা ও মানবতার জন্য বড় হুমকি।’
পাকিস্তান অবশ্য মোদির ওই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ব্রিকসের নেতারা মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তবে স্বাগতিক দেশের নেতা মোদি সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে আসায় অন্যান্য আলোচ্য বিষয় কিছুটা আড়ালে চলে গেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ শশাঙ্ক যোশী বলেন, মোদি যে ধরনের ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, সেটা সম্মেলনের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বসম্মতি পাবে না—তিনিও সেটা জানেন। তবু তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমে প্রচারের জন্য।
সম্মেলনের অর্জনগুলো ক্রমবর্ধমান, আর তার মধ্যে রয়েছে একটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং যৌথ ক্রেডিট রেটিং সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজে গতি বৃদ্ধি ইত্যাদি।
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, সেটা ভারতের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত সংযমের সঙ্গে মেলে না। তবে সেনাঘাঁটিতে হামলার বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়া—দুই তরফের সমর্থন পেয়েছে। অবশ্য পাকিস্তানের পুরোনো মিত্র চীন কোনো ধরনের মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।
সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিন্দা এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের যৌথ প্রচেষ্টা নিয়ে জোরালো কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। তবে তাতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার বিষয়টিকে কোনো ধরনের দোষারোপ করা হয়নি।
লন্ডনের রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক যোশী আরও বলেন, ‘চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন দিচ্ছে বলে কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। ভারতও এর ব্যতিক্রম আশা করেনি।’
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার জেরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্কের সম্মেলন ইতিমধ্যেপণ্ড হয়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ওই আয়োজন থেকে ভারতসহ কয়েকটি দেশের নাম প্রত্যাহারই এর কারণ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন